Ads Area

Web Design Course Admission

লবণাম্বু উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ ও অভিযোজনগত বৈশিষ্ট‍্য

লবণাম্বু উদ্ভিদঃ- সাধারণত আর্দ্র পরিবেশে লবণাক্ত মৃত্তিকায় যেসব উদ্ভিদ জন্মায়, তাদের লবণাম্বু উদ্ভিদ বা হ্যালোফাইট বলে।
          প্রচুর পরিমাণে অজৈব লবণ যথা- সোডিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যুক্ত লবণাক্ত মাটিতে এই উদ্ভিদগুলি বিস্তারলাভে সক্ষম।

উদাহরণ:-  সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, হোগলা, গোলপাতা, ক্যাংড়া, হারগোজা, বোড়া প্রভৃতি।

লবণাম্বু উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগঃ- 
অবস্থান অনুযায়ী লবণাম্বু উদ্ভিদ সাধারণত দুই ধরনের হয়। যথা--
      ১. জলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ:
         যেমন- গরান, গোলপাতা প্রভৃতি।
      ২. স্থলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ:
          যেমন- সুন্দরী

তবে ভৌগোলিক স্টোকার লবণাম্বু উদ্ভিদকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন - 

I. জলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ:  যেসব উদ্ভিদ লবণাক্ত জলাশয়, নদীর মোহনা অঞ্চলের জলে নিমজ্জিত বা উত্থিত অবস্থায় অবস্থান করে তাদের জলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ বলে।
উদা:  উপকূল অঞ্চলের ম‍্যাণগ্রোভ উদ্ভিদ।

II. স্থলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ:  যে সমস্ত উদ্ভিদ স্থলভাগের লবণাক্ত মাটিতে খুব অল্প বা পর্যাপ্ত জলের যোগানের ওপর নির্ভর করে জন্মায়, তাদের স্থলজ লবণাম্বু উদ্ভিদ বলে।
উদা:  পাথরকুচি

III. বায়বীয় লবণাম্বু উদ্ভিদ:  উপকূল অঞ্চল বা মরু অঞ্চলে বায়ুতাড়িত লবণ কণার প্রভাবে যেসব উদ্ভিদ জন্মায় তাদের বায়বীয় লবণাম্বু উদ্ভিদ বলে।
উদা:  বেতো, ট‍্যামারিক প্রভৃতি।


লবণাম্বু উদ্ভিদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যঃ- এই প্রকার উদ্ভিদের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরুপ---

👉  অঙ্গসংস্থানিক

◆ লবণাম্বু উদ্ভিদের কোশপ্রাচীর পুরু ও শক্ত হয়।
◆ উদ্ভিদগুলি সাধারণত বেঁটে ও গম্বুজাকার।
◆ গাছের পাতা পুরু কিউটিকলযুক্ত।
◆ পাতাগুলি মসৃণ ও তৈলাক্ত প্রকৃতির। পাতার জলধারণ ক্ষমতা অধিক।
◆ গাছগুলি বিরুৎ ও কাষ্ঠল প্রকৃতির।
◆ লবণাক্ত মাটিতে বায়ু প্রায় থাকে না বলে শ্বসনকার্যের জন্য বহুসংখ্যক শ্বাসমূল বের হয় এবং মাটির ওপর উল্লম্বভাবে অবস্থান করে।
◆ জোয়ার ভাটার প্রভাবে যাতে গাছগুলি উপড়ে না যায় বা কাদামাটিতে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকার জন্য গাছগুলির কান্ড থেকে ঠেসমূল বের হয়।
◆ বীজকে কাদামাটিতে ডুবে যাওয়া বা জলের স্রোতে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম ঘটে অর্থাৎ, মাটিতে পড়ার আগে গাছে থাকাকালীন অবস্থায় ফলের মধ্যে বীজের অঙ্কুরোদগম হয়।
◆ অভিযোজন ঘটানোর জন‍্য অঙ্কুরিত গাছগুলি দ্রুত বড় হয়।

👉 শারীরবৃত্তীয়

◆ কোশপ্রাচীর পুরু হওয়ায় আস্রাবন চাপ বেশি মাত্রায় সহ্য করতে পারে বলে এদের জলশোষণ করার ক্ষমতা অধিক হয়।
◆ পত্ররন্ধ্রের সংখ‍্যা কম হয় এবং শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মাটিতে জন্মায় বলে জলের অভাবকে মানিয়ে নেওয়ার জন‍্য বাষ্পমোচনের হারও কম হয়।

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Area